আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক প্রতিশোধের শিকার হচ্ছেন অনেক সাবেক নেতা-কর্মী। কুমিল্লার আদর্শ নগর উপজেলার অরণ্যপুর গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা নাহিদুল আলম সজিব ইংল্যান্ডে অবস্থান করছেন, আর দেশে তার পরিবারের ওপর চলছে হামলা ও হয়রানি।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে রাজনীতির মাঠে কাজ করেছেন সজিব। তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের কোতোয়ালি থানা শাখার প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তরুণ বয়স থেকেই তিনি আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সংগঠনের তৃণমূল কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন।
তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই তার রাজনৈতিক জীবন এক ভয়াবহ মোড় নেয়। সজিব তখন প্রবাসে অবস্থান করছিলেন। গতকাল ২৫ আগস্ট রাতে তার গ্রামের বাড়িতে একদল অজ্ঞাত লোক হামলা চালায়। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, স্থানীয় বিরোধী দলের অনুসারী জামায়াত, বিএনপির নেতা কর্মীরা হামলা চালিয়েছে এবং হামলাকারীরা ঘরে ভাঙচুর চালায়, দেয়াল ও দরজায় লাঠি-পাথর নিক্ষেপ করে এবং পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেয়।
এরপর থেকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। পুলিশ প্রায়ই বাড়িতে যায় এবং সজিবকে খোঁজে, যা পরিবারের জন্য স্থায়ী আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সজিবের রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত ভূমিকার কারণেই তাকে হয়রানি করা হচ্ছে।
এক আত্মীয় বলেন,
“সজিব ভাই রাজনীতি করতেন মানুষের কল্যাণের জন্য। এখন তিনি বিদেশে থাকলেও আমরা দেশে প্রতিদিন ভয় নিয়ে বাঁচি। পুলিশ এলেই মনে হয় আবার কিছু একটা হবে।”
বর্তমানে নাহিদুল আলম সজিব যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। তিনি ফোন কলে বলেন,
“আমি রাজনীতি করেছি দেশ ও দলের জন্য। কিন্তু আজ আমার পরিবারই নিরাপদ নয়। প্রতিদিন তাদের ফোনে ভয়ভীতি দেওয়া হচ্ছে। আমি চাই, আমাদের মতো কর্মীদের অন্তত নিরাপদে থাকতে দেওয়া হোক।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষমতার পালাবদলের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে “প্রতিশোধের সংস্কৃতি” নতুন নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এর পরিধি বেড়ে যাওয়ায় তৃণমূল রাজনীতিতে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব ঘটনায় প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা ও আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত না হলে সহিংসতার চক্র আরও বিস্তৃত হবে।
এ ব্যাপারে থানাই অভিযোগের চেষ্টা করিলেও পুলিশ অভিযোগ নেয় নাই। সাংবাদিক কোতয়ালী মডেল থানায় পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করিলে পুলিশ বিষয়টি এরিয়ে চলে।

