রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকায় “নভেল টি (NOVEL TEA)” ব্র্যান্ডের মালিক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, তার ছেলে ও ম্যানেজারের উপর হামলা, চাঁদা দাবি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ১নং শান্তিনগর, শাহজাহানপুর, ঢাকায় নিজস্ব মালিকানাধীন ভবনে একটি অফিস, একটি খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র, একটি পাইকারি বিক্রয়কেন্দ্র এবং একটি গোডাউন স্থাপন করে “নভেল টি (NOVEL TEA)” নামে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তার তিন ছেলে- মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ইফতেখার ইসলাম ভূঁইয়া ও তানভীর ইসলাম ভূঁইয়া-ব্যবসায় সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের দার্জিলিং ও আসাম এবং শ্রীলঙ্কার সিলন থেকে উন্নতমানের চা সংগ্রহ করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে সরবরাহ করে আসছিল। মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সংসদ সদস্য তার কাছে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা না দিলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে ১৫-২০ জন লোক “নভেল টি”র অফিসে প্রবেশ করে পুনরায় দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। জনাব ভূইয়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে, তার ছেলে ও ম্যানেজারকে মারধোর ও গালাগালি করা হয় এবং অফিস ও বিক্রয়কেন্দ্রে ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় গোডাউনে রক্ষিত আনুমানিক দেড় কোটি টাকার চা লুটপাট ও নষ্ট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গিয়াছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী স্থানীয় সংসদ সদস্যের বাসভবনে গিয়ে দেখা করার চেষ্টা করলেও তিনি সাক্ষাৎ দেননি বলে জানা যায়। পরে থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করতে চাইলে পুলিশ অভিযোগ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। এ বিষয়ে স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে রাজি হননি। এলাকাবাসী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, উক্ত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে থেকেই চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন। নির্বাচনের পর তার বাহিনীর তাণ্ডব লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা প্রাণনাশের ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। এমনকি পুলিশ প্রশাসনও সংসদ সদস্যের প্রভাবে অভিযোগকারীদের উল্টো মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলার ঘটনায় আহত মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, তার ছেলে ও ম্যানেজার চিকিৎসা গ্রহণের পর বর্তমানে ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় আত্মগোপন করে আছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও অভিযুক্ত সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

