সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রলীগের নেতা সাব্বির আহমেদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সাব্বির আহমেদ সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম “জয়বাংলা থটস”-এর সম্পাদক হিসেবেও কাজ করছেন। পরিবারের দাবি, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে গত ৫ আগস্ট তিনি সাভার থেকে নিজ বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ফিরে আসেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ আগস্ট সকালে সাব্বির আহমেদ একটি অটোরিকশায় করে স্থানীয় বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। পথিমধ্যে কয়েক কিলোমিটার যাওয়ার পর তিনটি মোটরসাইকেলে করে আসা পাঁচ থেকে ছয়জন দুর্বৃত্ত তার অটোরিকশার গতিরোধ করে। পরে তারা জোরপূর্বক তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে রাস্তায় ফেলে দেয় এবং স্টাম্প, হকি স্টিক ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অটোরিকশা চালক জানান, হামলাকারীদের আচরণ দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থল থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে আশপাশের লোকজনকে বিষয়টি জানালে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা দ্রুত মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে যায়।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় সাব্বির আহমেদকে দ্রুত সিলেটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার পর সাব্বির আহমেদের পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানাতে জগন্নাথপুর থানায় গেলে থানার স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকার কথা জানিয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

